মনোবিজ্ঞানের কিছু জরুরী কথা

মনোবিজ্ঞানকে ইংরেজীতে  Psychology (সাইকোলজি) বলা হয়। Psychology শব্দটি ইংরেজী ভাষার হলেও এটি মূলত দুটি গ্রীক শব্দ থেকে এসেছে।একটি হলো Pshyche যার অর্থ হলো মন, এবং অন্যটি Logos যার অর্থ জ্ঞান। অর্থ্যাৎ মন সংক্রান্ত জ্ঞান।বর্তমানে এটিকে আচরনের বিজ্ঞানও বলা হয়।
এটা আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি যে মানুষ পৃথিবীতে আগমনের পর থেকেই একজন আরেকজনের উপর ‍ নির্ভরশীল, তাই প্রত্যেককে অন্যজনের সম্পর্কে জানতে হতো, আচরন সম্পর্কে আন্দাজ করতে হতো, মন যুগিয়ে চলার জন্য মন বুঝার চেষ্টা করতে হতো। মূলত তারা তখন থেকেই মনোবিজ্ঞান চর্চা শুরু করেছিল। তাই অনেক বিজ্ঞানী বলেন 











"Psychology is the oldest subject but youngest science"



life psychology





মনোবিজ্ঞান প্রথম থেকেই র্দশন শাস্ত্রে আলোচনা করা হতো কিন্তু এ ব্যাপকতা উপলব্ধী করে বিজ্ঞানীগণ একে আলাদা বিষয় হিসেবে আলোচনা শুরু করেন।
মনোবিজ্ঞান অত্যন্ত আর্কষনীয় বিষয় হওয়ায় প্রচুর বিজ্ঞানী এটি নিয়ে গবেষনা শুরু করেন।ব্যাপক গবেষনা আর চর্চার ফলে ঊনবিংশ শতাব্দীতে মনোবিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীগণ ‍সুনির্দিষ্ট ও গাণিতিক ব্যখ্যা খুজে পান যার ফলে মনোবিজ্ঞান “বিজ্ঞান” ‍হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
আমাদের জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই মনোবিজ্ঞানের প্রয়োগ করতেই হয় কারণ বেশিরভাগ কাজই অন্য কোন মানুষ বা প্রাণীর সাথেই করা হয়ে থাকে।অনেক সময় আমরা অবচেতন ভাবেই মনোবিজ্ঞানের প্রয়োগ করে থাকি। যেমন মনে করুন আপনি কারো সাথে কথা বলছেন, হঠাৎ আপনার মনে হলো সে আপনার কথা শুনতে আগ্রহী নয়, তখন আপনি আপনার কথার ইতি টানলেন। এক্ষেত্রে আপনি আপনি কিভাবে বুঝলেন যে সে আপনার কথা শুনতে আগ্রহী নয়? হয়তে তার মুখের ভঙ্গি বা তার কথার ধরন বা তার কথার টোন বা সব মিলিয়ে। এসব বিষয় আপনার মস্তিস্ক বিবেচনা করেছে এবং এই সিদ্ধান্তে পৌছেছে যে সে আপনার কথায় মনোযোগী না। অর্থ্যাৎ আপনার মস্তিস্ক মনোবিজ্ঞানের এই বিষয়টি আয়ত্ব করে ফেলেছে যা হয়তো নিজেও জানেন না। আপনি শুধু সিদ্ধান্তটা জানেন। আপনি নিজের প্রতি সচেতন হলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিও বুঝে ফেলতে পারেন।
খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যে আপনান মস্তিস্ক এসব আয়ত্ব করেছে ছোট থেকেই পরিবেশ থেকে।
আপনি নিশ্চই এমন কাউকে চেনেন যার সাথে আপনি কথা বলতে অনাগ্রহী ভাব দেখিয়েছেন কিন্ত সে তা কখনই মনে হয় বুঝতেই পারে না, এমন হওয়ার কারণ হলো তার মস্তিস্ক এই বিষয়টি শিখতে বা আয়ত্ব করতে পারে নি যে কিভাবে বা কোন চিহ্নগুলো দেখে বুঝা যায় কেউ কথা বলতে অনাগ্রহী।
আসলে আমরা সবাই কোন নির্দিষ্ট পরিবেশে বড় হই যার কারণে অন্য পরিবেশের মানুষের সাথে মেশা কঠিন হয়ে পড়ে আবার কারো কারো জন্য তা অসম্ভব হয়। আদিম যুগে অন্য পরিবেশের মানুষের সাথে মেশার খুব বেশী প্রয়োজনীয়তা থাকতো না কিন্তু আজ অামাদের পৃথিবী একটি গ্রামে পরিনত হয়েছে, সবার সাথে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। তাই সব পরিবেশর মানুষকে চিনতে, বুঝতে ও তাদের সাথে মিশতে আমাদের সাইকোলজি অধ্যয়ন এখন খুব জরুরী।তাই বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতে সাইকোলজি অন্যতম চর্চার বিষয়।
শুধু মানুষ চিনতে ও বুঝতে নয় নিজেকে ভালো ও সুখী রাখার প্রকল্পনাও আমাদের সাইকোলজি দেয়।
মনোবিজ্ঞানের প্রয়োগ বাড়ছে তাই এর শাখাও বাড়ছে অনবরত। কয়েকটি শাখার নাম বলে আজ শেষ করবো।
১। সাধারণ মনোবিজ্ঞান
২। অস্বাভাবিক  মনোবিজ্ঞান
৩। শিল্প মনোবিজ্ঞান
৪। শারীরতাত্ত্বিক মনোবিজ্ঞান
৫। শিশু মনোবিজ্ঞান
৬। শিক্ষা মনোবিজ্ঞান
৭। প্রকৌশল মনোবিজ্ঞান ইত্যাদি।
জীবন ও মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক, নানা সমস্যা, সমাধান ইত্যাদি নিয়ে আমরা অরো আলেচনা করবো ইনশা-আল্লাহ। সাথেই থাকুন।
x

Post a Comment

0 Comments